নামাজের সময়

ফজর = ১৫ মিনিট
জোহর = ১৮ মিনিট
আছর = ১০ মিনিট
মাগরিব = ২০ মিনিট
ঈশা = ২০ মিনিট
মোট = ৭৫ মিনিট বা ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। ১ দিন বা ১৪৪০ মিনিট এর মধ্যে মাত্র ৭৫ মিনিট আল্লাহ্ এর ইবাদতের জন্য আর
বাকি ১৩৬৫ মিনিট দুনিয়াবি কাজের জন্য আপনার সুযোগ আছে। যে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন সেই রবের জন্য দিনে ৭৫ মিনিট কি খুব বেশি?
আসুন সবাই নামাজ পড়ি ও আল্লাহ্ এর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি।
সকল মুসলমানরা আসুন শেয়ার করি।


বিশেষ কথা



বিশেষ কথা ঃ-
পরিস্কার কথা যে, হে মানুষ! তুমি যদি সুষ্ঠু বিবেক প্রয়োগে গভীরভাবে চিন্তা করো, তাহলে অবশ্যই উপলব্ধি করতে পারবে যে, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী মাত্র।এ থেকে যা লাভ হবে, তা এর ক্ষতি পূরণে যথেষ্ট নয়।
     দুনিয়ার ধাঁধাঁয় নফসকে পেরেশান এবং দুনিয়ার ব্যাপারে অন্তরকে মশগুল করা প্রকৃত পক্ষে আখিরাতের জন্য এমন কঠিন আযাব ও শান্তির ব্যবস্থা করা,যা সহ্য করার কথা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
     এ বিষয়টি সম্যক উপলব্ধি এবং হৃদয়ে পূণভাবে গ্রথিত করে নিতে সক্ষম হওয়ার পর তাকে প্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিষয় পরিত্যাগ করতে হবে। আল্লাহর ইবাদত করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ও নিতান্ত দরকারী, কেবল তাই সে গ্রহন করবে। এর বেশি কিছুতেই নয়”


জেনে নিন ২০টি কবীরা গুনাহ সম্পর্কেঃ

1. আল্লাহর সাথে শিরক করা
2. নামাজ পরিত্যাগ করা
3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া
4. অন্যায় ভাবে মানুষ হত্যা করা
5. পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা
6. যাদু-টোনা করা
7. এতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা
8. জিহাদের ময়দান থেকে থেকে পলায়ন
9. সতী-সাধ্বী মু‘মিন নারীর প্রতি অপবাদ রটানো
10. রোজা না রাখা
11. যাকাত আদায় না করা
12. ক্ষমতা থাকা সত্যেও হজ্জ আদায় না করা
13. যাদুর বৈধতায় বিশ্বাস করা
14. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া
15. অহংকার করা
16. চুগলখোরি করা
17. আত্মহত্যা করা
18. আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা
19. অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ ভক্ষণ করা
20. উপকার করে খোটা দান করা।

পবিত্র কোআনের কিছু বানী

পৃথিবীর প্রত্যেক তিনজন ব্যাক্তির মধ্যে একজন মুসলমান। ইসলাম ধর্মে কোনো দলবাজী বা ফিরকাবন্দী নেই।মুসলমানদের বিভক্ত হওয়া থেকে এবং ধর্মে নানা মতের সৃষ্টি করা থেকে কঠোরভাবে সাবধান করা হয়েছে।চার ইমামের মৃত্যুর অনেক বছর পরে তাঁদের নামে মাযহাব তৈরি হয়েছে।আমার খুব প্রিয় এবং খুব পছন্দের পবিত্র কোআনের কিছু বানী, আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।

১/ আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সুরা আন নিসা-১৮ )

২/ আর আমি তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, সম্পদের ক্ষতি, জান-মালের ক্ষতি আর ফল ফসলের লোকসান দ্বারা। আর ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ।
যারা তাদের উপর কোন বিপদ এলে বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য আর আমরাতো তারই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। সুরা বাকারাহ (১৫৫-১৫৬)

৩/ হে ঈমানদারগন, তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর আর তোমরা মুসলমান না হইয়া মরো না। তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে ধর এবং বি্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি সঞ্চার করেন ফলে তোমরা তার অনুগ্রকে পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা আগুনর কিনারায় ছিলে অতৎপর তিনি তোমাদের উদ্বার করেছেন্। এরূপে আল্লাহ তার নির্দশন সমূহ প্রকাশ করেন যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার। তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিৎ যারা লোকদেরকে কল্যানের দিকে ডাকবে এবং অসৎ কাজ হতে বিরত করবে আর এসকল লোকই হবে সফলকাম। সুরা আল ইমরান (১০২-১০৪)

৪/ তুমি আরো দেখতে পাবে যে, ফেরেশতারা আরশের চারদিক বৃত্ত বানিয়ে তাদের রবের প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করছে৷ মানুষের মধ্যে ইনসাফের সাথে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং ঘোষণা দেয়া হবে, সারা বিশ্ব-জাহানের রবের জন্যই সমস্ত প্রশংসা৷ সুরা যুমার (৬৭-৭৫)

৫/ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ। বাকারা:-১১৬।

৬/ সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার। বাকারা:-১৭৭।

৭/ নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালণকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার। (সূরা আল আহযাব ৩৫ )

৮/ তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা কর আকাশ থেকে কে বৃষ্টি বর্ষণ করে? তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ!’ বল: ‘সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহরই!’ না! তাদের অধিকাংশেরই কোন চেতনা নেই। (সূরা আনকাবুত ২৯:৬৩)

৯/ মানুষের কৃতকর্মের দরুন জলেস্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদের কোন কোন কর্মের শাস্তি তাদের আস্বাদন করান হয় যাতে তারা সৎপথে ফিরে আসে। (সূরা আর রুম, ৩০:৪১)

কুরআনে বর্ণিত পঁচিশ জন নবীর নাম

কুরআনে বর্ণিত পঁচিশ জন নবী হলেন:
 
→ ০১ : হযরত আদম আ:
→ ০২ : হযরত নূহ আ:
→ ০৩ : হযরত ইদরীস আ:
→ ০৪ : হযরত হূদ আ:
→ ০৫ : হযরত ছালেহ আ:
→ ০৬ : হযরত ইবরাহীম আ:
→ ০৭ : হযরত লূত আ:
→ ০৮ : হযরত ইসমাঈল আ:
→ ০৯ : হযরত ইসহাক আ:
→ ১০ : হযরত ইয়াকূব আ:
→ ১১ : হযরত ইউসুফ আ:
→ ১২ : হযরত আইয়ূব আ:
→ ১৩ : হযরত শু‘আয়েব আ:
→ ১৪ : হযরত মূসা আ:
→ ১৫ : হযরত হারূণ আ:
→ ১৬ : হযরত ইউনুস আ:
→ ১৭ : হযরত দাঊদ আ:
→ ১৮ : হযরত সুলায়মান আ:
→ ১৯ : হযরত ইলিয়াস আ:
→ ২০ : হযরত আল-ইয়াসা‘ আ:
→ ২১ : হযরত যুল-কিফ'ল আ:
→ ২২ : হযরত যাকারিয়া আ:
→ ২৩ : হযরত ইয়াহ্ইয়া আ:
→ ২৪ : হযরত ঈসা আ:
→ ২৫ : হযরত মুহাম্মাদ (:সা)

সূরা ইয়াছিন নাযিল ও ফজিলত

সূরা ইয়াছিন নাযিল ও ফজিলত:-

১. মক্কাবাসীরা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে উপহাস করে বলতো, ইয়াতিম ও নিরক্ষর হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কি করে নবুয়তের দাবী করতে পারে? অবিশ্বাসীদের এই প্রশ্নের উত্তরে মহান আল্লাহ তায়ালা এই সুরা নাযিল করেন।

২. মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা ইয়াছিনের মাধ্যমে নবুয়তের সত্যতা প্রমান করেছেন।

৩. হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সুরা ইয়াছিনকে কালাবুল কোরআন অথ্যাৎ কোরআনের হৃদয় বলে ঘোষনা দিয়েছেন।

৪. সুরা ইয়াছিনে আল্লাহ তায়ালার তাওহীদ ও অদ্বিতীয় শক্তি মহিমা বা কোরআনের পবিত্রতা ও গৌরব, নবী করিম (সাঃ) নুবয়ত, রেসালাত ও ইসলামের সত্যতা, কেয়ামতের দিন পুনরুত্থান ও পরকালের বিষয় উল্লেখ থাকায় এই সুরার গুরত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন।

৫. তিরমিজী শরীফে উল্লেখ রয়েছে, সুরা ইয়াছিন একবার পাঠ করলে দশবার কোরআন খতম করার নেকী হয় এবং পাঠকের সব গুনাহ মাফ হয়।

৬. হাদীসে আরো বলা হয়েছে, রাতে সুরা ইয়াছিন পাঠ করলে নিস্পাপ অবস্থায় ঘুম থেকে উঠা যায় এবং পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

৭. যে ব্যক্তি সুরা ইয়াছিন বেশী বেশী পড়ে থাকে কেয়ামতের দিন এই সুরাই তার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে।

৮. নবী করিম (সাঃ) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা ইয়াছিন পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা থাকবে।

৯. বুজ্জরগানে ওলামায়ে কেরামগন বর্ননা করেছেন, বিপদ-আপদ ও রোগ ব্যধির সময় এই সুরা পাঠ করলে সম্পূর্ন মুক্তি লাভ হয়। মুমুর্হ ব্যক্তির কাছে এই সুরা পড়লে মৃত্যু যন্ত্রনা লাঘব হয় এবং কবরের কাছে সুরা ইয়াছিন পড়লে কবরের আযাব থেমে যায়।

সুরা ইয়াছিনের আরো অনেক ফজিলত ও বরকত রয়েছে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন, যাতে করে আমরা সুরা ইয়াছিনের সার্বিক বরকত ও ফজিলতের ধণ্য হতে পারি। আমিন।

পবিত্র কোরআনে কোনটি কত বার

পবিত্র কোরআনেঃ
=========
=> পুরুষ শব্দটা এসেছে ২৪ বার,
=> নারী শব্দটা এসেছে ২৪ বার
=> আদেশ শব্দটা এসেছে ১০০০ বার,
=> নিষেধ শব্দটা এসেছে ১০০০ বার
=> হালাল শব্দটা এসেছে ২৫০ বার,
=> হারাম শব্দটা এসেছে ২৫০ বার
=> জান্নাত শব্দটা এসেছে ১০০০ বার,
=> জাহান্নাম শব্দটা এসেছে ১০০০ বার
=> দুনিয়া শব্দটা এসেছে ১১৫ বার,
=> আখিরাত শব্দটা এসেছে ১১৫ বার
=> ফেরেশতা শব্দটা এসেছে ৮৮ বার,
=> শয়তান শব্দটা এসেছে ৮৮ বার
=> জীবন শব্দটা এসেছে ১৪৫ বার,
=> মৃত্যু শব্দটা এসেছে ১৪৫ বার
=> উপকার শব্দটা এসেছে ৫০ বার,
=> ক্ষতিকর শব্দটা এসেছে ৫০ বার
=> মানুষ শব্দটা এসেছে ৩৬৮ বার,
=> রাসূল শব্দটা এসেছে ৩৬৮ বার
=> যাকাত শব্দটা এসেছে ৩২ বার,
=> বরকত শব্দটা এসেছে ৩২ বার
=> জিহ্বা শব্দটা এসেছে ২৫ বার,
=> উত্তম বাক্য শব্দটা এসেছে ২৫ বার
=> মাস শব্দটা এসেছে ১২ বার,
=> দিন শব্দটা এসেছে ৩৬৫ বার

অতএব, এটা কি নির্দিধায় বলা যায় না যে, মহাগ্রন্থ আল কুরআন কোন মানুষের বানানো নয় বরং এটা মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে
আমাদের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। মুক্তির পথ।

নামাজ আদায়কারীর ৫টি সম্মান

নামাজ আদায়কারীর ৫টি সম্মানঃ-

এক হাদিস নামায আদায় করার ফজিলত ওনামায তরকের পরিণতি সম্পর্কে হযরত নবী করিম (সাঃ) বলেন—”যে ব্যক্তি নামাযের ব্যাপারে যত্নবান থাকে,আল্লাহ্‌ তায়ালা তাহাকে পাঁচটি(৫টি) বিষয়ে সম্মানিত করেন।

১/ তাহার রুজি-রোজগারের অভাব দূর করিয়া দেন।

২/ তাহার কবরের আজাব মাফ করিয়া দিবেন।

৩/ কেয়ামতের দিন তাহার ডান হাতে আমলনামা দান করিবেন।

৪/ সে বিদ্যুৎবেগে পুলছেরাৎ পার হইবে।

৫/ হিসাবের ঝামেলা হইতে মুক্ত থাকিয়াই সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।



আমার প্রিয় ভাই ও বোন একবার ভেবে দেখুন আমরা একটু সময় আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় করলে আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য কতো নিয়ামত দিবেন,আসুন আমরা নিজে নামায পড়ি ও অন্যকেও নামাযের দাওয়াত দেই।

নামায অবহেলাকারির ১৪টি শাস্তিঃ-

*দুনিয়ায় পাঁচটি

১/ তাহার জীবনে কোনরূপ বরকত হইবেনা।

২/ আল্লাহ্ তার চেহারা হইতে নেক লোকের চিহ্ন উঠাইয়া লইবেন।

৩/ যে যাহা কিছু নেক কাজ করবে, তাহার ছওয়াব পাইবেনা।

৪/ তাহার দোয়া আল্লাহ্ পাকের নিকট কবুল হইবে না।

৫/ আল্লাহ্ পাকের সমস্ত ফেরেশতা তাহার উপর অসন্তুষ্ট থাকবে।

**মরনের সময় তিনটি শাস্তি

১/ অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত হইয়া মৃতু্যবরণ করিবে।

২/ ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃতু্য বরন করিবে।

৩/ মৃতু্যকালে তাহার এত পিপাসা পাইবে যে, তাহার ইচ্ছা হইবে দুনিয়ার সমস্ত পানি পান করিয়া ফেলিতে।

***কবরে তিনটি শাস্তি

১/ তাহার কবর এমন সংকীর্ণ হবে যে তাহার এক পাশের হাড় অপর পাশের হাড়ের সংগে মিলিত হইয়া চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া যাইবে।

২/ তাহার কবরে, দিনরাত্রি সবসময় আগুন জ্বালাইয়া রাখা হবে।

৩/ আল্লাহ্ তাহার কবরে একজন আজাবের ফেরেশ্তা নিযুক্ত করিবেন। তাহার হাতে লোহার মুগুর থাকবে। সে মৃত ব্যক্তিকে বলতে থাকবে যে, দুনিয়ায় কেন নামায পড় নাই। আজ তাহার ফল ভোগ কর। এই বলিয়া ফজর নামায না পড়ার জন্য ফজর হইতে জোহর পর্যন্ত, জোহর নামাযের জন্য জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, আছরের নামাযের জন্য আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের নামাযের জন্য মাগরিব হইতে এশা পর্যন্ত এবং এশার নামাযের জন্য এশা হইতে ফজর পর্যন্ত লোহার মুগুর দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। প্রত্যেক বার আঘাতের সময় বজ্রপাতের মত শব্দ হইবে এবং শরীর চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া পঞ্চাশ গজ মাটির নিচে চলিয়া যাইবে। সেই ফেরেশ্তা পুনরায় তাহাকে জীবিত করিয়া হাড় মাংস এক করিয়া আবার আঘাত করিতে থাকিবে। এই ভাবে কিয়ামত পর্যন্ত লোহার মুগুর দিয়া তাহাকে আঘাত করতে থাকবে।

****হাশরের মাঠে তিনটি শাস্তি

১/ হিসাবের কঠোরতা।

২/ আল্লাহ্‌ তায়ালার নারাজি।

৩/ এবং জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়া।



এই শাস্তির পরে আরও বিভিন্ন হাদিসে আরও অনেক রকম শাস্তির কথাও উল্লেখ আছে।

আসুন আমরা সবাই মিলে নামাজ কায়েম করি আর আমরা সবাই জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চেষ্টা করি।

আমাদের সবাইকে আল্লাহ্‌ ক্ষমা করুন আর সবাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন…আমিন।

সুদ ও ঘুষ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন-হাদীসের উদ্ধৃতি

সুদ ও ঘুষ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন-হাদীসের উদ্ধৃতিঃ-

***সুদ প্রথা দিয়ে টাকা উপার্জন করা, ইসলামী সমাজে একটি অমার্জনীয় অপরাধ । ইসলামের দৃষ্টিতে উহা একটি মারাত্মক ও ধ্বংসাত্বক শোষণের কেৌশল । আরবীতে একে বলা হয় রিবা, ইংরেজীতে Interest. আর ঘুষ হল একটি সামাজিক ব্যধি, সমাজের ক্ষমতাহীন মানুষেরা তাদের হৃত অধিকার কিংবা অন্যের অধিকারকে করায়ত্ব করার লক্ষে দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিকে যে অবৈধ অর্থ কিংবা পণ্য সামগ্রী পর্দার অন্তরালে (গোপনে) প্রদান করে তাই ঘুষ বা উৎকোচ নামে পরিচিত। ইংরেজীতে একে বলা হয় Bribe ।

পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতিঃ-
>> তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করোনা । এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে বুঝে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারককে উৎকোচ দিও না । (সূরা-বাকারা,আয়াত-১৮৮)

>> যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির ন্যায় দাঁড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করেই পাগল করে দেয় । এটা এই জন্যেই যে তারা বলে বেচা-কেনা তো সুদেরই মত । (সূরা-বাকারা,আয়াত-২৭৫) >>

>>আল্লাহ তায়া’লা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন । যার নিকট তার প্রতিপালকের উপদেশ এসেছে অতঃপর যে বিরত হয়েছে, তার অতীত কার্যকলাপ তো পিছনেই পড়ে গেছে এবং তার ব্যপারে সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ার ।(সূরা-বাকারা,আয়াত-২৭৫)

>> মানুষের ধন-সম্পদে তোমাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এই আশায় যা কিছু তোমরা সুদে দিয়ে থাক; মহান আল্লাহ তায়া’লার নিকট তা বর্ধিত হয় না । পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র অন্তরে যারা দিয়ে থাকে, অতএব, তারাই দ্বিগুণ লাভ করে । (সূরা-রুম,আয়াত-৩৯)

>> অতঃপর তোমরা যদি তা (বকেয়া সুদ) না ছাড়, তবে জেনে রাখ এটা আল্লাহ তায়া’লা ও তার রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধ । কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই । এতে তোমরা অত্যাচার করবেনা, অত্যাচারিতও হবে না । (সূরা-বাকারা,আয়াত-২৭৯)

## এ সম্পর্কে আরও দেখুন- (সূরা-বাকারা,আয়াত-২৭৬.২৭৮,২৮০)(সূরা-আল ইমরান,আয়াত-১৩০)

পবিত্র হাদীসের উদ্ধৃতিঃ-
>> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা’নত করেছেন, সুদখোরের উপর, সুদদাতার উপর, এর লেখকের উপর ও উহার সাক্ষীদ্বয়ের উপর এবং বলেছেন এরা সকলেই সমান । {মুসলিম/৩৯৪৮-জাবির (রাঃ), আবূ দাউদ/৩৩০০, তিরমীযী/১২০৯}

>> রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সুদ হল সত্তর প্রকার পাপের সমষ্টি । তার মাঝে সবচেয়ে নিম্নতম হল-আপন মায়ের সাথে ব্যভিচার করা । {ইবনে মাজাহ/২২৭৪-আবূ হুরাইরা (রাঃ)}
## এছাড়াও দেখতে পারেন- {বুখারী/১৯৫১, বুখারী/৩৫৩০}

>> নিশ্চয়ই যে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে জাহান্নাম । {বুখারী, মিশকাত/৩৯৯৫} (ঘুষ সম্পর্কিত)

>> হারাম খাদ্য ভক্ষণ করা শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবেনা । {মিশকাত/২৭৮৭}(ঘুষ সম্পর্কিত)}

পবিত্র আশুরা দিবস (আরবী মহরম মাসের দশ তারিখ) গুরত্ব ও ইতিহাস

পবিত্র আশুরা দিবস (আরবী মহরম মাসের দশ তারিখ) আজকের দিনের গুরত্ব ও
ইতিহাসঃ
১. সমগ্র জগৎ সৃষ্টির দিন।
২. এদিন কেয়ামত অনুষ্টিত হবে।
৩. হযরত আইয়ুব (আঃ) কঠিন রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
৪. হযরত ঈসা (আঃ) জন্মগ্রহন করেছিলেন।
৫. হযরত দাউদ (আঃ) আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন।
৬. হযতর সোলেমান (আঃ) তার হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছিলেন।
৭. হযরত ইউনুস (আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন।
৮. হযরত ইয়াকুব (আঃ) তার হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আঃ) কে চল্লিশ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন ।
৯. ফেরাউনের স্ত্রী বিবি আছিয়া শিশু মুসা আঃ কে গ্রহন করেছিলেন।
১০.মহা প্লাবনের সময় হযরত নূহ (আঃ) এর নৌকা তার অনুসারীদের নিয়ে জুদি পাহাড়ের পাদদেশে এসে থেমেছিল।
১১. এই দিনে স্বেরসারী ইয়াজিদ বাহিনী বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রাণাধিন দৌহিত্র অতুতভয় সৈনিক হযতর ইমাম হোসাই (রাঃ) কে একজন ব্যতিত সপরিবারে কারবালার মরু প্রান্তরে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আশুরার দিন নিজ পরিবার-পরিজনদের জন্য মুক্ত হাতে ব্যয় করবে, আল্লাহ তাকে সারা বছর সচ্ছলতা দান করবেন।